ক্রোয়েশিয়ার মত ভাল ইমিগ্রেশন সিস্টেম ইউরোপে অনেক জায়গাতেই নেই। যেমন আপনি যদি একটানা চার বছর ক্রোয়েশিয়ায় বৈধভাবে চাকরি করেন তাহলে আপনি PR বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং খুব সহজেই PR পেয়ে যাবেন। PR পেয়ে যাওয়ার এক বছর পরে আপনি সে দেশের পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। তাছাড়া সে দেশের শ্রম মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত আইন গুলো বিদেশীদের জন্য বেশ উপযোগী। বাংলাদেশ থেকে যারা ক্রোয়েশিয়া তে চাকরি করতে যায় এবং তাদের সাথে কম্পানি যে চুক্তি করে থাকে সেখানে যাওয়ার পরে কোম্পানি ঠিক সেই বেতন দিতে বাধ্য থাকে। মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপের অনেক দেশেই বাংলাদেশের বৈধ শ্রমিকরা সঠিক বেতন না পেলেও ক্রোয়েশিয়া তে পেয়ে থাকেন। এছাড়া ক্রোয়েশিয়াতে বিদেশীদের জন্য বিবাহ নীতি আইনও অনেক শিথিল। এ সমস্ত বিষয় বিবেচনা করলে ইউরোপীয় অনেক দেশের চেয়ে ক্রোয়েশিয়ার চাকরি আপনার জন্য অনেক বেশি লোভনীয় মনে হবে এবং এটি সঠিক। গত কয়েক মাস যাবত বাংলাদেশ থেকে ক্রোয়েশিয়ার কনস্যুলেটের মাধ্যমে যে ভিসা সিস্টেম চালু ছিল তা জানুয়ারি ২০২১ সালের ১ তারিখ থেকে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এখন থেকে একজন বাংলাদেশী চাকরি প্রার্থীকে ক্রোয়েশিয়ার ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার পরে অবশ্যই দিল্লিতে গিয়ে ভিসা নিতে হবে। এর দ্বারা ক্রোয়েশিয়ার ভিসার ব্যাপারে চাকরিপ্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা অনেকখানি বেড়েছে। ঢাকাস্থ কনস্যুলেট থেকে ভিসা নেওয়ার ব্যাপারে অনেকের দ্বিধা ছিল সেটা বর্তমানে নেই। এখন আগের মতোই ক্রোয়েশিয়ার জন্য দিল্লি গিয়ে ভিএফএস এ কাগজপত্র জমা দিয়ে দুই সপ্তাহ পর ভিসা গ্রহণ করা যাবে।
২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে ক্রোয়েশিয়া সেনজেন দেশে পরিণত হওয়ার কথাটি আপনি নিশ্চয় ইতিমধ্যে শুনেছেন। সেখানে বর্তমানে ইউরো চালু হয়েছে এবং ক্রোয়েশিয়া ইইউভূক্ত একটি দেশ। এর মানে সেনজেন দেশে পরিণত হওয়ার জন্য একটি দেশকে যে সকল শর্ত পালন করতে হয় ক্রোয়েশিয়া তার সব কটি করেছে। কেবল অফিসিয়াল সিদ্ধান্তটুকু বাকি। তাই এখন ক্রোয়েশিয়ায় ঢোকার অর্থই আগামীর একটি সেনজেন দেশে প্রবেশ করা। বছরের মাঝামাঝি সময়ে ক্রোয়েশিয়া সেনজেন দেশে পরিণত হবার পরে ক্রোয়েশিয়ার ভিসার দাম বর্তমান ভিসার দাম এর চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে। তাই আপনার উচিত হবে যত দ্রুত সম্ভব ক্রোয়েশিয়ার ভিসার জন্য আবেদন করে ফেলা।



